গাড়ি ও বাইকের নাম্বার প্লেটের নিয়ম
বিআরটিএর নাম্বার প্লেটের নিয়ম, সহজ কথায়। এখানে পাবেন মোটরসাইকেলের সামনের প্লেটের নতুন নির্দেশনা, ডিজিটাল নাম্বার প্লেট, সাইজ, রং, অক্ষরের মানে আর জরিমানা।
সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬। এটি আইনের সহজ সারাংশ, আইনি পরামর্শ নয়।
নতুন নিয়ম: মোটরসাইকেলের সামনের নাম্বার প্লেট
বিআরটিএর ১৬ অক্টোবর ২০২৬-এর গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৫ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিটি মোটরসাইকেলের সামনে নাম্বার প্লেট লাগাতে হবে। প্লেটটি মালিক নিজের খরচে বানিয়ে নেবেন।
| মোটরসাইকেল (স্কুটার ছাড়া) | ২৮৫ × ৫০ মি.মি.। নম্বর এক লাইনে লেখা যাবে, যেমন: ঢাকা মেট্রো-ল-১১-১২২৯ |
|---|---|
| স্কুটার | ২০০ × ১০০ মি.মি.। নম্বর এক লাইনে না দুই লাইনে হবে, বিজ্ঞপ্তিতে তা বলা নেই। |
| অক্ষর ও সংখ্যা | কমপক্ষে ২০ মি.মি. উঁচু |
| রং | সাদা জমিনে কালো বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা |
| উপাদান | স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম |
| নকশা | কোনো শোভাবর্ধন বা নকশা চলবে না |
| বিআরটিএর অনুমোদন | লাগবে না, ডেইলি অবজারভারের প্রতিবেদন (২০ অক্টোবর ২০২৬) অনুযায়ী। এলাকার সাইনবোর্ড বা মেটালের দোকানেই বানানো যায়। |
| শেষ সময় | ১৫ নভেম্বর ২০২৬ |
সামনের প্লেট পেছনের প্লেটের বদলি নয়। পেছনে বিআরটিএর ডিজিটাল (আরএফআইডি) প্লেট থাকতেই হবে।
সামনের প্লেট দরকার? আমাদের ফ্রি টুলে বিআরটিএর মাপে প্লেট ডিজাইন করুন, তারপর আসল মাপের PDF যেকোনো সাইনবোর্ডের দোকানে দিন।
সামনের প্লেট নিয়ে বিধিমালায় কী আছে?
সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২-এর বিধি ৩৬(১০) অনুযায়ী মোটরসাইকেলের সামনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখানো থেকে ছাড় আছে। অন্যদিকে বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তি বলছে, আইন ও বিধিমালায় সামনে নম্বর দেখানোর কথা আগে থেকেই আছে।
১৮ অক্টোবর ২০২৬ একজন আইনজীবী বিআরটিএকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে এই নির্দেশনার আইনি ভিত্তি জানতে চেয়েছেন। ২৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এর কোনো জবাব বা নতুন সময়সীমার খবর আমরা পাইনি।
বিজ্ঞপ্তি ও বিধিমালায় যা আছে, আমরা শুধু তা-ই জানাচ্ছি। বিআরটিএর সর্বশেষ নির্দেশনা মেনে চলুন।
ডিজিটাল নাম্বার প্লেট: কী এবং কীভাবে পাবেন
ডিজিটাল নাম্বার প্লেট কী?
এটি বিআরটিএর অফিসিয়াল নাম্বার প্লেট: আরএফআইডি ট্যাগসহ রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ধাতব প্লেট। বিআরটিএ ৩১ অক্টোবর ২০১২ থেকে এই প্লেট দিচ্ছে।
প্লেট বানায় গাজীপুরের বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ)। আরএফআইডি ট্যাগের কারণে প্রায় ১১ মিটার দূর থেকে রিডার গাড়িটি চিনতে পারে। গাড়ির ক্ষেত্রে ট্যাগটি লাগানো হয় উইন্ডশিল্ডে।
মোটরসাইকেল পায় একটি প্লেট, পেছনের জন্য। কার, বাস ও ট্রাক পায় এক জোড়া, সামনে ও পেছনে।
ডিজিটাল নাম্বার প্লেট কীভাবে পাবেন
- ফি জমা দিন। অনলাইনে bsp.brta.gov.bd-তে (ভিসা, মাস্টারকার্ড, অ্যামেক্স, ডিবিবিএল নেক্সাস, রকেট বা বিকাশ), ১৮টি ব্যাংকের ৫৪৭টি শাখায়, অথবা ২৪টি বুথে টাকা দেওয়া যায়।
- বিআরটিএ প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ তৈরি করবে। তারপর এসএমএস পাবেন, গাড়ি নিয়ে আপনার বিআরটিএ সার্কেল অফিসে যেতে বলা হবে।
- সময় নিয়ে গাড়িসহ অফিসে যান। সেখানেই প্লেট ও ট্যাগ লাগানো হয়, আর বিআরটিএ আপনার আঙুলের ছাপ নেয়।
ডিজিটাল নাম্বার প্লেট আনতে কী কী লাগে
ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের জন্য সঙ্গে নিন:
- রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ: মূল কপি ও একটি A4 ফটোকপি
- মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স: মূল কপি ও একটি A4 ফটোকপি
রেজিস্টার্ড মালিক নিজে উপস্থিত না থাকলে প্লেট লাগানো হয় না। প্রতিষ্ঠানের গাড়ি হলে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে নমিনির চিঠি আর নমিনির পরিচয়পত্র লাগবে।
ডিজিটাল নাম্বার প্লেটের ফি
বিআরটিএর সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মোটরসাইকেলের প্লেটের ফি ২,২৬০ টাকা। কার, বাস বা ট্রাকের এক জোড়া প্লেটের ফি ৪,৬২৮ টাকা। দুটিতেই আরএফআইডি ট্যাগ আছে।
| গাড়ি | যা পাবেন | ফি |
|---|---|---|
| মোটরসাইকেল | আরএফআইডি ট্যাগসহ একটি প্লেট | ২,২৬০ টাকা |
| ভাড়ায় চালিত তিন চাকার গাড়ি | আরএফআইডি ট্যাগসহ এক জোড়া প্লেট | ২,২৬০ টাকা |
| কার, মাইক্রোবাসসহ হালকা ও মাঝারি গাড়ি (ব্যক্তিগত বা ভাড়ায় চালিত) | আরএফআইডি ট্যাগসহ এক জোড়া প্লেট | ৪,৬২৮ টাকা |
| বাস, ট্রাক, মিনিবাস, ট্যাংক লরি (ব্যক্তিগত বা ভাড়ায় চালিত) | আরএফআইডি ট্যাগসহ এক জোড়া প্লেট | ৪,৬২৮ টাকা |
সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতিতে ১৫% সম্পূরক শুল্কের কথাও আছে। ওপরের ফিতে এটি ধরা আছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
ডিজিটাল নাম্বার প্লেট পেতে কতদিন লাগে?
বিআরটিএ বলছে ৩০ কার্যদিবস। বাস্তবে কত দিন লাগছে, তা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।
ডিজিটাল নাম্বার প্লেট চেক করবেন কীভাবে
NP লিখে ২৬৯৬৯ নম্বরে এসএমএস পাঠান। প্লেট লাগানোর সময় নিতে NP A লিখে স্পেস দিয়ে তারিখ লিখে ২৬৯৬৯-এ পাঠান।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী এসএমএস সেবা ঢাকা মেট্রো ও চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেলের জন্য। বিআরটিএর “DNP & DRC Checker” অ্যাপেও প্লেটের অবস্থা দেখা যায়।
গাড়িভেদে নাম্বার প্লেটের সাইজ
মোটরসাইকেলের পেছনের ডিজিটাল প্লেট ২০৫ × ১৫২ মি.মি.। কারের প্লেট ৩০০ × ১৫২ মি.মি., আর বাস বা ট্রাকের প্লেট ৩৫০ × ১৫২ মি.মি.। মাপগুলো সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২-এর বিধি ৩৬ থেকে নেওয়া।
| গাড়ি | প্লেটের সাইজ | জেলার নাম, কমপক্ষে | শ্রেণির অক্ষর, কমপক্ষে | সংখ্যা, কমপক্ষে |
|---|---|---|---|---|
| মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা, প্রতিবন্ধীবান্ধব গাড়ি | ২০৫ × ১৫২ মি.মি. | ১৬ মি.মি. | ১৬ মি.মি. | ২৭ মি.মি. |
| মোটরকার, মাইক্রোবাস, হিউম্যান হলার | ৩০০ × ১৫২ মি.মি. | ২৩ মি.মি. | ২৩ মি.মি. | ৩৮ মি.মি. |
| বাস, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী গাড়ি | ৩৫০ × ১৫২ মি.মি. | ২৫ মি.মি. | বলা নেই | ৪৫ মি.মি. |
তিন ধরনের প্লেটেই ওপরের মার্জিন কমপক্ষে ১০ মি.মি. এবং দুই সংখ্যার মাঝে ফাঁক কমপক্ষে ৬ মি.মি.। সূত্র: বিধি ৩৬(৬)–(৮)।
মোটরসাইকেলের নতুন সামনের প্লেটের মাপ আলাদা, বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী: ২৮৫ × ৫০ মি.মি., আর স্কুটারের জন্য ২০০ × ১০০ মি.মি.।
নাম্বার প্লেট লেখার নিয়ম
নম্বরের চারটি অংশ থাকে, দুই লাইনে। শুধু বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা চলবে, কোনো নকশা ছাড়া (বিধি ৩৬(২) ও ৩৬(৩))।
- প্রথম লাইন: জেলা বা মেট্রোর নাম, একটি হাইফেন, তারপর শ্রেণির একটি অক্ষর। যেমন: ঢাকা মেট্রো-ল
- দ্বিতীয় লাইন: দুই অঙ্কের সিরিজ, একটি হাইফেন, তারপর চার অঙ্কের নম্বর। যেমন: ১১-১২২৯
প্রথম লাইন খোদাই বা প্রিন্ট করা যায়। কিন্তু দ্বিতীয় লাইনের সংখ্যা প্লেটে খোদাই করতেই হবে (বিধি ৩৬(১২))।
০১ থেকে ১০ পর্যন্ত সিরিজ পুরোনো পদ্ধতির গাড়ির নম্বর বদলের জন্য রাখা। নতুন সিরিজ শুরু হয় ১১ থেকে।
পরিবহন গাড়ির পেছনের প্লেট মাটি থেকে ১৮৩ সেন্টিমিটারের বেশি উঁচুতে লাগানো যাবে না (বিধি ৩৬(১১))।
অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশনের প্লেট
অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশনের গাড়িতে সাদা প্লেটে লাল অক্ষর থাকে। প্রথম লাইনে জেলা বা মেট্রোর নাম। দ্বিতীয় লাইনে চার অঙ্কের ক্রমিক নম্বর, একটি “/” আর সাল, যেমন ০০০১/২০২২ (বিধি ৪০)।
অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ এক মাস, নবায়ন করা যায় না। তবে বডি তৈরির জন্য এক মাসের বেশি অপেক্ষায় থাকা চেসিসের মেয়াদ বাড়ানো যায়, সব মিলিয়ে চার মাস পর্যন্ত। ফি সাধারণ রেজিস্ট্রেশন ফির অর্ধেক।
নাম্বার প্লেটের রং
ব্যক্তিগত গাড়ির প্লেট সাদা, লেখা কালো। প্লেটের রং ঠিক হয় গাড়িটি কী কাজে চলে আর কোন জ্বালানিতে চলে তা দেখে, শ্রেণির অক্ষর দেখে নয় (বিধি ৩৬(২))।
| গাড়ি | প্লেটের রং | লেখার রং |
|---|---|---|
| ব্যক্তিগত গাড়ি ও নিচে নেই এমন সব গাড়ি | সাদা | কালো |
| ভাড়ায় চালিত গাড়ি (ট্যাক্সি, সিএনজি, পাবলিক বাস, ভাড়ার মালবাহী) | সবুজ | কালো |
| বৈদ্যুতিক গাড়ি | সবুজ | সাদা |
| অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশন | সাদা | লাল |
| ডিলার, সংযোজনকারী বা প্রস্তুতকারকের নম্বর | নীল | কালো |
| বিশেষ রেজিস্ট্রেশন: জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, দাতা সংস্থা ও তাদের বিদেশি কর্মী (বিধি ৩৯) | হলুদ | কালো |
সেনাবাহিনী ও কূটনৈতিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বিআরটিএ করে না। এসব গাড়ি বা পুলিশের গাড়ির কোনো রং বিধিমালায় দেওয়া নেই। আমরা সেগুলো নিশ্চিত হতে পারিনি, তাই এখানে রাখিনি।
নাম্বার প্লেটের অক্ষরের মানে
জেলার নামের পরের বাংলা অক্ষরটি গাড়ির শ্রেণি বোঝায়। মোটরসাইকেলে “ল” মানে ১২৫ সিসির বেশি, “হ” মানে ৫১ থেকে ১২৫ সিসি, আর “এ” মানে ৫০ সিসি পর্যন্ত।
কিছু ওয়েবসাইটে মোটরসাইকেলের অন্য সিসি-সীমা লেখা থাকে, যেমন “এ” মানে ১০০ সিসি পর্যন্ত। গেজেটে যা আছে, ওপরে সেটাই দেওয়া। নিচের সারণিতে মোটরসাইকেলের সারিগুলো আলাদা রঙে দেখানো।
| অক্ষর | গাড়ির শ্রেণি | সিরিজ |
|---|---|---|
| ক | মোটরকার, ১০০০ সিসি পর্যন্ত | ১১–৯৯ |
| খ | মোটরকার, ১০০১ থেকে ১৩০০ সিসি | ১১–৯৯ |
| গ | মোটরকার, ১৩০১ থেকে ২০০০ সিসি (সেলুন, সেডান, হ্যাচব্যাক, এস্টেট, স্পোর্টস) | ১১–৯৯ |
| ঘ | জিপ (হার্ড বা সফট জিপ, স্টেশন ওয়াগন) | ১১–৯৯ |
| ঙ | অটো-টেম্পো, ব্যক্তিগত | ১১–৯৯ |
| চ | ব্যক্তিগত মাইক্রোবাস; প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস মাইক্রোবাস | ১১–৫০৫১–৯৯ |
| ছ | ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস বা হিউম্যান হলার; অ্যাম্বুলেন্স | ১১–৭০৭১–৯৯ |
| জ | ভাড়ায় চালিত মিনিবাস | ১১–৯৯ |
| ঝ | ব্যক্তিগত সার্ভিস মিনিবাস (অমনিবাস, ট্যুর কোচ, লাক্সারি কোচ, স্কুল বাস) | ১১–৯৯ |
| ট | ভারী পাবলিক মালবাহী গাড়ি | ১১–৯৯ |
| ঠ | দুই কাজের গাড়ি (পিকআপ, প্রিজন ভ্যান, সিকিউরিটি ভ্যান, ট্রুপ ক্যারিয়ার, প্যানেল ভ্যান) | ১১–৯৯ |
| ড | মাঝারি পাবলিক মালবাহী গাড়ি | ১১–৯৯ |
| ঢ | ব্যক্তিগত ট্যাংক লরি; ভাড়ায় চালিত ট্যাংক লরি; ব্যক্তিগত আর্টিকুলেটেড গাড়ি (প্রাইম মুভার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রাক্টর); ভাড়ায় চালিত আর্টিকুলেটেড গাড়ি | ১১–৪০৪১–৬০৬১–৮০৮১–৯৯ |
| থ | ভাড়ায় চালিত মোটরক্যাব রিকশা (সিএনজি অটোরিকশা) | ১১–৯৯ |
| দ | অটোরিকশা, ব্যক্তিগত | ১১–৯৯ |
| ন | হালকা পাবলিক মালবাহী গাড়ি | ১১–৯৯ |
| প | ট্যাক্সি ক্যাব | ১১–৯৯ |
| ফ | অটো-টেম্পো, পাবলিক | ১১–৯৯ |
| ব | ভাড়ায় চালিত অমনিবাস (চালকসহ ৩২ বা তার বেশি আসন) | ১১–৯৯ |
| ভ | মোটরকার, ২০০০ সিসির বেশি | ১১–৯৯ |
| ম | হালকা ব্যক্তিগত মালবাহী গাড়ি; ২.৫ টন পর্যন্ত ডেলিভারি ভ্যান (মিনি ট্রাক, তিন চাকার ভ্যান) | ১১–৫০৫১–৯৯ |
| য | প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গাড়ি | ১১–৯৯ |
| র | রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের গাড়ি | ১১–৯৯ |
| ল | মোটরসাইকেল বা স্কুটার, ১২৫ সিসির বেশি | ১১–৯৯ |
| শ | বিশেষ কাজের গাড়ি (ক্রেন, টো ট্রাক, কংক্রিট মিক্সার, লোডার, পরিচ্ছন্নতার গাড়ি) | ১১–৯৯ |
| স | ব্যক্তিগত সার্ভিস অমনিবাস (চালকসহ ৩২ বা তার বেশি আসন) | ১১–৯৯ |
| হ | মোটরসাইকেল, ৫১ থেকে ১২৫ সিসি | ১১–৯৯ |
| অ | মাঝারি ব্যক্তিগত মালবাহী গাড়ি | ১১–৯৯ |
| ই | কৃষিযান (পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর); ব্যক্তিগত ট্রেইলার; ভাড়ায় চালিত ট্রেইলার | ১১–৬০৬১–৮০৮১–৯৯ |
| উ | ভারী ব্যক্তিগত মালবাহী গাড়ি (কার্গো ট্রাক বা ভ্যান, টিপার, রিফার ভ্যান) | ১১–৯৯ |
| এ | মোটরসাইকেল, ৫০ সিসি পর্যন্ত | ১১–৯৯ |
সূত্র: সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২-এর তফসিল ৭। কোনো অক্ষরের একাধিক সিরিজ থাকলে ব্যবহার আর সিরিজ একই ক্রমে লেখা।
প্লেটে জেলা ও মেট্রোর নাম
প্লেটের প্রথম লাইন বলে গাড়িটি কোথায় রেজিস্টার্ড। বিধিমালার তফসিল ৬-এ ৭২টি নাম আছে: ৬৪ জেলা আর ৮টি মেট্রো।
প্লেটে যেভাবে লেখা হয়, ৮টি মেট্রোর নাম ঠিক সেভাবে:
- ঢাকা মেট্রো
- গাজীপুর মেট্রো
- চট্ট মেট্রো
- রংপুর মেট্রো
- খুলনা মেট্রো
- বরিশাল মেট্রো
- রাজ মেট্রো
- সিলেট মেট্রো
- মেট্রো নাম শুধু মহানগর এলাকার জন্য। জেলার বাকি অংশে সাধারণ নাম বসে, যেমন ঢাকা বা চট্টগ্রাম।
- গেজেটে ময়মনসিংহ মেট্রো, নারায়ণগঞ্জ মেট্রো বা কুমিল্লা মেট্রো বলে কিছু নেই।
- প্লেটের লেখা জেলার প্রচলিত নাম থেকে আলাদা হতে পারে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্লেটে লেখা থাকে “নওয়াবগঞ্জ”। চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেট্রো লেখা হয় সংক্ষেপে: “চট্ট মেট্রো” ও “রাজ মেট্রো”।
নাম্বার প্লেটের জরিমানা ও শাস্তি
নাম্বার প্লেট লাগানো ও দৃশ্যমান না রেখে গাড়ি চালালে ৬ মাস পর্যন্ত জেল, ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা দুটোই হতে পারে। এটি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ধারা ১৬(৩) ও ৭২-এ আছে।
| অপরাধ | ধারা | শাস্তি |
|---|---|---|
| নাম্বার প্লেট লাগানো ও দৃশ্যমান না রেখে গাড়ি চালানো বা চালাতে দেওয়া | ১৬(৩), ৭২ | ৬ মাস পর্যন্ত জেল, ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা দুটোই |
| ভুয়া, নকল বা বদলানো রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার বা প্রদর্শন | ১৭, ৭৩ | ৬ মাস থেকে ২ বছর জেল, ১ থেকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা দুটোই |
| অনুমোদন ছাড়া গাড়ির মাপ বা কারিগরি বৈশিষ্ট্য বদলানো | ৪০, ৮৪ | ১ থেকে ৩ বছর জেল, ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা দুটোই |
- এই তিন অপরাধে পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারে (ধারা ১১০)।
- একই অপরাধ আবার করলে সর্বোচ্চ শাস্তি দ্বিগুণ হতে পারে (ধারা ১০০)।
- সামনের প্লেট না থাকলে কোন ধারায় কত জরিমানা, বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তিতে তা বলা নেই।
- অঙ্কগুলো ২০১৮ সালে পাস হওয়া আইন থেকে নেওয়া। পরের কোনো সংশোধনীতে এগুলো বদলেছে কি না, আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।
সাম্প্রতিক ব্যবস্থা
- জুন ২০২৬: এআই ট্রাফিক ক্যামেরা এড়াতে প্লেটের কিছু অংশ টেপ দিয়ে ঢেকেছিলেন এক বাইকার। ধারা ১৬(৩) ও ৭২-এ ঢাকার আদালত তাঁকে এক মাসের জেল ও ২,০০০ টাকা জরিমানা করে।
- মে ২০২৬: ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, প্লেট হতে হবে সরকার-নির্ধারিত রং, নকশা ও মাপে, আর রং দিয়ে নম্বর লেখা অবৈধ। জরিমানাসহ বিশেষ অভিযানের ঘোষণাও দেয়।
- ডিএমপি আরও বলেছে, প্লেট লুকানো, ভাঙা, বদলানো বা আংশিক ঢাকা থাকলে চালক ও মালিক দুজনের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সঙ্গে ডিমেরিট পয়েন্ট কাটা যাবে।
এটি আইনের সারাংশ, আইনি পরামর্শ নয়।
নাম্বার প্লেট নিয়ে সাধারণ ভুল ও ভুল ধারণা
বেশিরভাগ ঝামেলা হয় নকশা, ভুল রং, ইংরেজি অক্ষর বা ঢাকা সংখ্যার কারণে। প্রতিটি নিয়ে নিয়ম কী বলে, নিচে দেখুন।
“সামনের প্লেট লাগালে পেছনের ডিজিটাল প্লেট লাগবে না।”
ভুল। পেছনের আরএফআইডি প্লেট লাগবেই।
“সামনের প্লেট বিআরটিএ দেবে।”
ভুল। মালিক নিজে সাইনবোর্ড বা মেটালের দোকান থেকে বানিয়ে নেবেন।
“প্লেটে লোগো, স্লোগান বা নকশা দেওয়া যায়।”
যায় না। বিধি ৩৬(২)-এ শোভাবর্ধন ও নকশা নিষেধ, বিআরটিএর সামনের প্লেটের বিজ্ঞপ্তিতেও তাই।
“ইংরেজি অক্ষরে লিখলেও চলে।”
চলে না। রেজিস্ট্রেশন নম্বর বাংলা অক্ষর ও সংখ্যায় লিখতে হবে (বিধি ৩৬(২))।
“প্লেটের রং যেকোনো হলেই হয়।”
না। গাড়ির ধরন দেখে রং ঠিক হয় (বিধি ৩৬(২))। ডিএমপিও বলেছে, প্লেট হতে হবে সরকার-নির্ধারিত রং, নকশা ও মাপে।
“নিজের প্লেটে পছন্দের ভিআইপি নম্বর বসানো যায়।”
না। পছন্দের নম্বর শুধু বিআরটিএ দেয়, শুধু কার ও জিপের জন্য, সাধারণ ফির কয়েক গুণ টাকায় (বিধি ৫০)। নিজের নয় এমন নম্বর প্লেটে লিখলে তা ভুয়া রেজিস্ট্রেশন হিসেবে ধরা হয় (ধারা ১৭ ও ৭৩)।
“রং দিয়ে নম্বর লিখে দিলেই হলো।”
না। ডিএমপি বলেছে, রং দিয়ে লেখা নম্বর অবৈধ।
“সংখ্যার ওপর একটু টেপ দিলে কিছু হয় না।”
হয়। এ কারণেই জুন ২০২৬-এ ঢাকার আদালত এক বাইকারকে জেল দিয়েছে।
“অ্যাক্রিলিক বা প্লাস্টিকের সামনের প্লেটেও চলবে।”
দোকানে বিক্রি হলেও বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তিতে শুধু স্টেইনলেস স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের কথা বলা আছে।
“প্লেটের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি ফন্ট আছে।”
কোনো নিয়মে ফন্টের নাম আমরা পাইনি। নকশাদার ফন্ট “শোভাবর্ধন” ধরা হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তাই সাদামাটা, স্পষ্ট অক্ষরই নিরাপদ।
সাধারণ প্রশ্ন
ডিজিটাল নাম্বার প্লেট কী?
এটি বিআরটিএর অফিসিয়াল রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ধাতব প্লেট। এতে আরএফআইডি ট্যাগ থাকে, যা দিয়ে রিডার গাড়িটি চিনতে পারে। বিআরটিএ ৩১ অক্টোবর ২০১২ থেকে এটি দিচ্ছে।
ডিজিটাল নাম্বার প্লেট কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ। বিধি ৩৬(৪) অনুযায়ী প্লেট হতে হবে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ধাতব প্লেট। আর সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ধারা ১৬(৩) অনুযায়ী প্লেট লাগানো ও দৃশ্যমান না রেখে গাড়ি চালানো যাবে না।
অনলাইনে কি ডিজিটাল নাম্বার প্লেটের আবেদন করা যায়?
ফি অনলাইনে bsp.brta.gov.bd-তে দেওয়া যায়। তবে বিআরটিএর এসএমএস পাওয়ার পর প্লেট লাগাতে হয় আপনার বিআরটিএ সার্কেল অফিসে গিয়ে।
ডিজিটাল নাম্বার প্লেট আনতে কী কী লাগে?
ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের জন্য লাগবে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ, আর মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স। প্রতিটির মূল কপি ও A4 ফটোকপি নিন। মালিককে নিজে যেতে হবে।
বাইকের নাম্বার প্লেট করতে কত টাকা লাগে?
পেছনের ডিজিটাল প্লেটের জন্য বিআরটিএর ফি ২,২৬০ টাকা, আরএফআইডি ট্যাগসহ। সামনের প্লেট দোকানে বানাতে ঢাকায় খরচ পড়ছে প্রায় ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, মাপ ও উপাদানভেদে (অক্টোবর ২০২৬-এর সংবাদ প্রতিবেদন)।
ডিজিটাল নাম্বার প্লেট পেতে কতদিন লাগে?
বিআরটিএ বলছে ৩০ কার্যদিবস। বাস্তবে কত দিন লাগছে, তা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।
ডিজিটাল নাম্বার প্লেট চেক করব কীভাবে?
NP লিখে ২৬৯৬৯ নম্বরে এসএমএস পাঠান, অথবা বিআরটিএর “DNP & DRC Checker” অ্যাপ ব্যবহার করুন। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী এসএমএস সেবা ঢাকা মেট্রো ও চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেলের জন্য।
বাইকের নাম্বার প্লেটের সাইজ কত?
পেছনের ডিজিটাল প্লেট ২০৫ × ১৫২ মি.মি.। বিআরটিএর নতুন সামনের প্লেট ২৮৫ × ৫০ মি.মি., আর স্কুটারের জন্য ২০০ × ১০০ মি.মি.।
সূত্র
সূত্রগুলো আমরা ২৪ অক্টোবর ২০২৬ পড়েছি। “বিধি” মানে সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২, আর “ধারা” মানে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮।
- সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২, বাংলাদেশ গেজেট, ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ (PDF, বিআরটিএ কুড়িগ্রামের সাইটে)
- বিআরটিএর সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি, ক্রমিক ১৭: রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ নম্বরপ্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ
- সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৪৭ নং আইন)
- টিবিএস বাংলা, ১৬ অক্টোবর ২০২৬: সামনের প্লেট নিয়ে বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তি
- দ্য ডেইলি স্টার, অক্টোবর ২০২৬: ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলে সামনের প্লেট বাধ্যতামূলক
- দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ১৬ অক্টোবর ২০২৬: সামনের প্লেটের বিজ্ঞপ্তি
- ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা, ১৬ অক্টোবর ২০২৬: সামনের প্লেটের বিজ্ঞপ্তি
- ডেইলি অবজারভার, ২০ অক্টোবর ২০২৬: সামনের প্লেটে বিআরটিএর অনুমোদন লাগবে না
- মানবজমিন, ১৮ অক্টোবর ২০২৬: বিআরটিএকে লিগ্যাল নোটিশ
- দ্য ডেইলি স্টার, ১৭ জানুয়ারি ২০২০: আরএফআইডি প্লেটের ফি ও ট্র্যাকিং
- নিউ এজ, ২ নভেম্বর ২০২২: আরএফআইডি ট্যাগ
- প্রথম আলো, ১১ মে ২০২৬: নাম্বার প্লেট নিয়ে ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি
- যুগান্তর, ১২ মে ২০২৬: নাম্বার প্লেট নিয়ে ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি
- দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২ জুন ২০২৬: প্লেট ঢেকে রাখায় বাইকারের জেল
- দ্য ডেইলি স্টার, ২ জুন ২০২৬: প্লেট ঢেকে রাখায় জেল ও জরিমানা
- কালের আলো, ২০ অক্টোবর ২০২৬: প্লেটের দোকানে ভিড়
- ঢাকা টাইমস, ২১ অক্টোবর ২০২৬: এলাকার দোকানে সামনের প্লেট
- সময়ের আলো, ২৩ অক্টোবর ২০২৬: সামনের প্লেটের দাম ও উপাদান